Loading...

About Satkania Bar

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি। ১৮৮০ সালে সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি প্রতিষ্ঠা হয় এবং এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৬৬ এর অধিক।  সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি একটি ঐতিহ্যবাহী এবং সম্বৃদ্ধশালী বার।

সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন গৌরবময় বার অ্যাসোসিয়েশন, যা ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সমিতি সাতকানিয়া বিচার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন, এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা ১৬৬-এরও বেশি, যা এই সংগঠনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি শুধুমাত্র আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষাই নয়, বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আইনের শাসন সুদৃঢ় করতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সমিতিটি বার বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। এটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সুগম করে এবং আইনি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে। এই সমিতির ওয়েবসাইট www.satkaniabar.org.bd এর মাধ্যমে আইনজীবী সাধারণ মানুষ সমিতির কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং সেবাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন। সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি তার দীর্ঘ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ইতিহাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন পেশায় একটি অনন্য অবস্থান দখল করে আছে এবং ভবিষ্যতেও ন্যায়বিচার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি:

উপমহাদেশের আইন আদালতের ক্রম: বিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ১৭৬১ সালে ইংরেজ কোম্পানি চট্টগ্রানের শাসন ভার গ্রহণ করে। মি. হেরি এর উপর চট্টগ্রামের শাসনভার অর্পন করা হয়। তাহাকে শাসন কার্য্যে সহায়তা করে জন্য সদস্যের একটি পরিষদ গঠন করা হয়। প্রথমত: রাজস্ব আদায়ের মধ্যেই তাদের কর্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী ১৮৮০ সালে জেলা জজের তত্ত্ববধানে জেলার দেওয়ানী ফৌজদরী বিচার কার্য নিস্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়। ১৭৬১ সাল থেকে ১৭৭২-১৭৮৫ সাল পর্যন্ত ওয়ারেন হেস্টিং এর নবাব থেকে বিচার বিভাগ গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত শেখ আনিস দেওয়ানী শেখ আশিক ফৌজদারী আদালতের প্রধান ছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম জেলায় জন জেলা জজ, জন অতিরিক্ত জেলা জজ, জন সাব জজ, ১৬ জন মুন্সেফ তত্মধ্যে ৫জন সদরে, জন পারিবারিক আদালতে, জন সাতকানিয়ায়, জন কক্সবাজারে, জন ফটিকছড়িতে, ১জন রাউজানে, জন সন্দ্বীপে বিচার কার্য্যে নিয়োজিত ছিল সময় জেলা ম্যাজিষ্ট্রে সহ সর্বমোট ৩৪ জন ম্যাজিষ্ট্রেট ফৌজদারী বিচার কার্যে নিয়োজিত ছিল।

১৮৮০ সালে সাতকানিয়া চৌকি আদালতের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় বর্তমান পোষ্ট অফিস ভবনে পরবর্তী ১৮৮৪ সালে সাতকানি (২৮০শতক) জমির উপর বর্তমান আদালত ভবন নির্মিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে সাতকনি (২৮০শতক) সম্পত্তির উপর সাতকানিয়া আদালত ভবন নির্মিত হওয়ার পর থেকে অত্র এলাকার নাম সাতকানিয়া হিসাবে পরিচিতি লাভ করে যেদিন থেকে সাতকানিয়া চৌকিতে বিচারিক কর্যক্রম শুরু হয়। সেদিন থেকে বিচার কর্য্যে সহযোগিতার জন্য আইনজীবীদের নিয়ে বার এসাসিয়েশন গঠিত হয়। উল্লেখ্য বৃটিশ আমলে আর.এস খতিয়ান প্রচার কালে বার এর সম্পাদকসাতকানিয়া বার এসোসিয়েশনএর নামে খতিয়ানে প্রচার আছে। সূচনা লগ্ন থেকে অত্র সমিতির সদস্যগণ দেশে আইনের শাসন, , ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম স্বাধীনতার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি নিষ্ঠার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন, অধিকার বঞ্চিত প্রান্তিক গোষ্ঠীসহ সমাজের অবহেলিত বিচার প্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সামাজিক দায়বোধ থেকে পরিচালিত কর্যক্রমে সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সদস্যগণের আন্তরিক প্রচেষ্টা সর্বজনবিদিত

অত্র সমিতি অতীতে অনেক দেশ বরেন্য আইনজীবীর জন্ম দিয়েছে। এ সমিতির বিজ্ঞ সদস্যগণের পেশাগত দায়িত্ব পালন, মামলা পরিচালনায় দক্ষতা, যুক্তি নির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন এবং পারদর্শিতার সুনাম সারা দেশে প্রশংসনীয় ।

ঐতিহ্য অবদান:

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সমিতি সাতকানিয়ার আইনজীবী সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি শুধুমাত্র আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষাই নয়, বরং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সমিতিটি বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে।

সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণ:

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সদস্য সংখ্যা সীমিত থাকলেও বর্তমানে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা ১৬৬-এরও বেশি। সময়ের সাথে সাথে সমিতির কার্যক্রম ও প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাতকানিয়ার আইন পেশার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বর্তমান অবস্থা ভবিষ্যৎ:

সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি তার দীর্ঘ ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন পেশায় একটি অনন্য অবস্থান দখল করে আছে। বর্তমানে সমিতিটি আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন, আইনি শিক্ষা, এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এই সমিতি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির ইতিহাস শুধুমাত্র একটি সংগঠনের ইতিহাস নয়, বরং এটি সাতকানিয়া আইন পেশার বিকাশ সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি জীবন্ত দলিল।